নতুন ওয়েবসাইটে এসইও কিভাবে করবেন বিস্তারিত জেনে নিন

প্রিয় পাঠক আজকের এই আর্টিকেলে, আমরা আপনাকে এমন সহজ এবং কার্যকর পদ্ধতি দেখাবো যেগুলো দিয়ে নতুন ওয়েবসাইটে এসইও শুরু করতে পারবেন। আর আপনি যদি মনে করেন এসইও আপনার জন্য কঠিন, আমরা সেটিও সহজ করে দেব। আজকের আর্টিকেলে আমরা জানবো, নতুন ওয়েবসাইটে এসইও কিভাবে করবেন সে সম্পর্কে বিস্তারিত। আমরা আরও আলোচনা এসইও কেন আপনার সফলতার চাবিকাঠি, নতুন ওয়েবসাইটে এসিও করার সহজ উপায় সম্পর্কে। 
নতুন ওয়েবসাইটে এসইও কিভাবে করবেন
তাই নতুন ওয়েবসাইট এসইও করা সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে এবং ওয়েবসাইট প্রথম পেজে রেঙ্ক করাতে চাইলে সম্পূর্ণ পোস্টটি শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পরুন।

নতুন ওয়েবসাইটে এসইও কিভাবে করবেন

আপনার একটি নতুন ওয়েবসাইট আছে। হয়তো ব্যবসায় বিক্রি বাড়াতে চান, অথবা ব্লগ লিখে অনলাইনে আয়ের স্বপ্ন দেখছেন। কিন্তু এখনও গুগল সার্চের প্রথম পৃষ্ঠায় আপনার সাইটটি আসে না। আপনি হয়তো ভাবছেন, "এসইও এত কঠিন কেন?", "কীভাবে শুরু করব?", "এটা কি পেশাদারদের কাজ – আমি কি পারব?"


ভালো খবর হলো, এসইও যতটা জটিল মনে হয়, বাস্তবে এটি সঠিক গাইডলাইন এবং কৌশল না জানার কারণে কঠিন মনে হয়। আপনি যদি একজন উদ্যোক্তা কিংবা ব্লগার হন—এসইও আপনার সবচেয়ে মূল্যবান হাতিয়ার। আর আপনি যদি সঠিক পথে শুরু করেন, তাহলে এসইও আপনার ওয়েবসাইটকে এমন একটি অটোমেটিক কাস্টমার জেনারেটর মেশিনে রূপান্তর করবে, যা ২৪/৭ আপনার জন্য কাজ করবে।

এসইও কেন আপনার সফলতার চাবিকাঠি?

একটি ওয়েবসাইট তৈরি করা মানেই কাস্টমার আসবে এমন নয়। কাস্টমার আনতে হলে প্রয়োজন গুগলের সার্চ রেজাল্টে দৃশ্যমান হওয়া। আর এখানেই এসইও কাজ করে। আজকের আলোচনা থেকে আপনি জানতে পারবেন নতুন ওয়েবসাইটে এসইও কিভাবে করবেন সে সম্পর্কে বিস্তারিত।

আসুন, একটি উদাহরণ দিইঃ 

ধরি আপনি ঢাকার উত্তরায় একটি রেস্টুরেন্ট চালান এবং নতুন কাস্টমার আনতে চান। যদি কেউ গুগলে "উত্তরার সেরা রেস্টুরেন্ট" লিখে সার্চ করেন এবং আপনার রেস্টুরেন্ট প্রথমে আসে, তাহলে তাদের অনেকেই সরাসরি আপনার জায়গায় আসবেন। কিন্তু যদি আপনার রেস্টুরেন্টের নাম গুগলের ৪র্থ বা ৫ম পৃষ্ঠায় থাকে, খুব সম্ভবত তারা অন্য কোথাও চলে যাবেন।

এসইও সরাসরি আপনাকে যেভাবে সাহায্য করবেঃ 

বিশ্বাসযোগ্যতা তৈরি করেঃ গুগলের প্রথম পৃষ্ঠায় থাকা মানেই লোকেরা আপনার ব্র্যান্ড বা পরিষেবার প্রতি আরও আস্থা পাবে।
ট্রাফিক বৃদ্ধি করেঃ অর্গানিক (বিনামূল্যে) ভিজিটর আনবে, যা বিজ্ঞাপনের খরচ ছাড়াই সম্ভব।
বিক্রয় বাড়ায়ঃ নতুন দর্শক মানেই নতুন কাস্টমার, যা বিক্রি বৃদ্ধিতে সহায়তা করবে।
স্থায়ী সমাধানঃ বিজ্ঞাপনের মতো এটার মেয়াদ শেষ হয় না। একবার সঠিকভাবে সেটআপ করলে এটি দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে যাবে।

নতুন ওয়েবসাইটে এসইও করার সহজ উপায়

আপনার নতুন ওয়েবসাইটে এসইও শুরু করতে হলে আপনাকে কয়েকটি ধাপ অনুসরণ করতে হবে। এটি দীর্ঘমেয়াদি প্রক্রিয়া, কিন্তু ধৈর্য রাখলে আপনি এর সুফল পাবেন।

১। সঠিক কীওয়ার্ড রিসার্চ দিয়ে শুরু করুন

কীওয়ার্ড হলো আপনার এসইও-এর প্রাণ। আপনার গ্রাহক বা ভিজিটর গুগলে যা লিখে খোঁজেন, সেটি হলো কীওয়ার্ড।

কীভাবে কীওয়ার্ড খুঁজবেন?
গুগলের অটোসাজেস্ট ব্যবহার করুন: ধরুন আপনি "শীতের পোশাক" বিক্রি করেন। গুগলে লিখুন, “শীতের পোশাক”। দেখবেন, গুগল অনেক প্রাসঙ্গিক পরামর্শ দিচ্ছে, যেমনঃ 
  • শীতের পোশাক দাম
  • অনলাইনে শীতের পোশাক
  • শীতের পোশাক কম দামে
এগুলো হলো আপনার ক্রেতাদের খোঁজা কীওয়ার্ড।

টুল ব্যবহার করুনঃ Google Keyword Planner, Ubersuggest, SEMrush ইত্যাদি টুল দিয়ে আরো গভীরে যেতে পারেন।
কমপিটিশন দেখুনঃ আপনার প্রতিযোগীরা যেসব কীওয়ার্ড ব্যবহার করছেন, সেগুলো লক্ষ্য করুন।


এরপর কী করতে হবে?
আপনার ওয়েবসাইটের কন্টেন্ট, পণ্যের পৃষ্ঠা বা ব্লগ পোস্টের জন্য সেরা কীওয়ার্ডগুলো বেছে নিন এবং এগুলো ব্যবহার শুরু করুন।

২। ভিজিটরদের জন্য মানসম্পন্ন কন্টেন্ট লিখুন

"কন্টেন্ট ইজ কিং" – এসইও-তে এটি একটি জনপ্রিয় বাক্য। কিন্তু কন্টেন্ট মানে শুধু লম্বা লেখাই না, বরং নির্দিষ্ট প্রয়োজন মেটানোর জন্য উপযোগী হওয়া চাই।

কন্টেন্ট তৈরির সময় মনে রাখুনঃ 
  • আপনার লেখায় এমন তথ্য দিন, যা ভিজিটরদের সমস্যা সমাধান করে।
  • স্পষ্টভাবে প্রশ্ন ও উত্তর দিন।
  • রিলেটেড কীওয়ার্ডগুলো স্মার্টভাবে ব্যবহার করুন।
  • ছবি, ভিডিও এবং গ্রাফিক্স ব্যবহার করে কন্টেন্ট আকর্ষণীয় করুন।
উদাহরণঃ আপনার যদি "অনলাইনে শীতের পোশাক" সাইট থাকে, আপনি একটি ব্লগ পোস্ট লিখতে পারেন: “বাংলাদেশে সেরা ১০টি শীতের পোশাক কম বাজেটে।” এগুলো শুধু গ্রাহক আকর্ষণ করবে না, ব্যাকলিংক (অন্য সাইটের লিঙ্ক) তৈরিতেও সাহায্য করবে। 

৩। অন-পেজ এসইও করুন

ওয়েবসাইটের প্রতিটি পৃষ্ঠাকে এসইও ফ্রেন্ডলি করুন। কিছু গুরুত্বপূর্ণ স্টেপঃ 

টাইটেল ট্যাগঃ প্রতিটি পেজের শিরোনাম যেন আকর্ষণীয় এবং কীওয়ার্ডযুক্ত হয়।
মেটা ডেসক্রিপশনঃ আপনার পেজের ২-৩টি সংক্ষিপ্ত বাক্য, যা ভিজিটরের আকর্ষণ বাড়াবে।
ইমেজ অপ্টিমাইজেশনঃ প্রতিটি ছবিতে “alt text” যুক্ত করুন।
ইন্টারনাল লিংক যুক্ত করুনঃ নিজের সাইটের একটি পেজ থেকে অপর পেজে সংযোগ তৈরি করুন।

৪। ব্যাকলিংক তৈরি করুন

যখন অন্য কোনো ওয়েবসাইট আপনার ওয়েবসাইট লিঙ্ক করে, তখন সেটি গুগলের কাছে সিগন্যাল দেয় যে আপনার সাইট বিশ্বাসযোগ্য। এটি এসইও-এর জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

ব্যাকলিংক তৈরি করার উপায়ঃ 

  • জনপ্রিয় ব্লগে গেস্ট পোস্ট করুন।
  • আপনার পোস্ট সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করুন।
  • লোকাল ডিরেক্টরিতে (বাংলাদেশের জন্য বিডি ডিরেক্টরি) যুক্ত করুন।
  • কন্টেন্ট এমনভাবে লিখুন, যাতে অন্যরা স্বেচ্ছায় এটি শেয়ার বা লিঙ্ক দিতে চান।

৫। প্রয়োজন হলে এক্সপার্টদের সাহায্য নিন

যদি এসইও প্রক্রিয়াটি বেশি জটিল মনে হয়, অথবা আপনি নিজের ব্যবসায় ফোকাস করতে চান, তাহলে পেশাদারি এসইও এজেন্সি আপনার জন্য সঠিক সমাধান হতে পারে। এসইও এমন একটি প্রক্রিয়া যা জ্ঞান, পরিকল্পনা, এবং ধৈর্যের সমন্বয়ে দীর্ঘমেয়াদে কাজ করে। তবে কখনো কখনো এর টেকনিক্যাল দিকগুলো জটিলতা তৈরি করতে পারে, বিশেষ করে যদি আপনি নিজের ওয়েবসাইট ম্যানেজ করার পাশাপাশি নিজের ব্যবসায়ও নিঃসন্দেহে সময় দিতে চান।

এসব ক্ষেত্রে এসইও সার্ভিস প্রভাইডারদের সাহায্য নেওয়া হতে পারে একটি কার্যকর সমাধান। পেশাদাররা সঠিক কীওয়ার্ড রিসার্চ থেকে শুরু করে মানসম্মত কন্টেন্ট তৈরি, ব্যাকলিংক তৈরি এবং আপনার ওয়েবসাইটকে টেকনিক্যাল দিক থেকে আরও শক্তিশালী করে তুলতে পারে। এটি আপনাকে গুগলের মতো সার্চ ইঞ্জিনে ভালো র‍্যাঙ্কিং অর্জনে সহায়তা করবে।

এর মাধ্যমে আপনি নিজের ব্যবসায় আরো বেশি ফোকাস করার সুযোগ পাবেন, যখন আপনার ওয়েবসাইট আপনার ডিজিটাল উপস্থিতি ধরে রেখে নতুন ট্রাফিক আনতে এবং ব্যবসার প্রবৃদ্ধিতে অবদান রাখবে।

সুতরাং, যদি কখনো অনুভব করেন যে এসইও পরিচালনা কষ্টসাধ্য হয়ে যাচ্ছে, সাহায্য নিতে দ্বিধা করবেন না। একত্রে কাজ করে সফলতার পথ তৈরি করা সম্ভব।

শেষ কথা

নতুন ওয়েবসাইটে এসইও করতে গিয়ে প্রথমে কিছুটা কঠিন লাগাটা স্বাভাবিক। তবে সঠিক কৌশল, পরিকল্পনা, এবং ধৈর্য ধরে কাজ করলে এটি শুধু আপনার ব্যবসাকে নয়, আপনার অনলাইন উপস্থিতিকেও এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে পারে।

গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো প্রতিনিয়ত শিখতে থাকা এবং সঠিক পদ্ধতি অনুসরণ করা। এসইও একটি দীর্ঘমেয়াদি প্রক্রিয়া, তাই তাড়াহুড়ো না করে স্থায়ী ফলাফলের লক্ষ্য রাখুন।

আপনার সময়ের সর্বোত্তম ব্যবহার করুন—আপনার দক্ষতা দিয়ে ব্যবসায় ফোকাস করুন, আর আপনার ওয়েবসাইটকে এমনভাবে তৈরি করুন, যাতে এটি সারাক্ষণ আপনাকে নতুন ভিজিটর এবং সম্ভাব্য গ্রাহক এনে দিতে পারে।

শুরু করুন আজই, কারণ একজন উদ্যোক্তা কিংবা ব্লগার হিসেবে সফল হওয়ার জন্য সঠিক সময়ে নেওয়া প্রতিটি পদক্ষেপই দামি!

উপরিক্ত আলোচনা থেকে আমরা জেনেছি, নতুন ওয়েবসাইটে এসইও কিভাবে করবেন সে সম্পর্কে বিস্তারিত। আমরা আরও জেনেছি এসইও কেন আপনার সফলতার চাবিকাঠি, নতুন ওয়েবসাইটে এসিও করার সহজ উপায় সম্পর্কে। অতঃপর পোস্টটি ভালো লাগলে নিয়মিত ওয়েবসাইট ভিজিট করবেন। বন্ধুদের মাঝে পোস্টটি শেয়ার করে তাদের এসইও করার সঠিক উপায় এবং সঠিক প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে জানতে সাহায্য করুন।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

রাজশাহীি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url